বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর — গ্রামীণফোন, রবি-এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটক — NEIR ডেটাবেসের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত। অর্থাৎ আপনি যে কোম্পানির সিম ব্যবহার করুন না কেন, ফোন চালু হওয়ার মুহূর্তেই তার IMEI যাচাই হয়ে যায়। তবে প্রতিটি অপারেটরের নিজস্ব কিছু ছোট সুবিধা ও ফিচার রয়েছে — যেমন USSD কোড, কাস্টমার কেয়ার ফ্লো, এবং কিছু ক্ষেত্রে অপারেটর-লক চেকার। এই নিবন্ধে অপারেটরভিত্তিক IMEI যাচাইয়ের সম্পূর্ণ পদ্ধতি ও কোডগুলো একসঙ্গে তুলে ধরা হলো।
IMEI কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
IMEI হলো ১৫ সংখ্যার একটি অনন্য পরিচায়ক, যা প্রতিটি মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য আলাদা। দুটি ভিন্ন ফোনের কখনো একই IMEI থাকতে পারে না। ফোনের ডায়াল প্যাডে \*#06# চেপে আপনি নিজের ফোনের IMEI দেখতে পাবেন। ডুয়াল-সিম মডেলে সাধারণত দুটি IMEI থাকে — প্রথমটি প্রাথমিক স্লটের, দ্বিতীয়টি দ্বিতীয় স্লটের।
প্রতিটি অপারেটর সিম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই IMEI বরাবর একটি অনুরোধ পাঠায় NEIR সার্ভারে। সার্ভার ফেরত পাঠায় তিনটি সম্ভাব্য স্ট্যাটাসের একটি — valid, under-review বা unauthorized। স্ট্যাটাস অনুযায়ী আপনার ফোন কাজ করবে বা সীমিত মোডে যাবে।
গ্রামীণফোন (Grameenphone) — কোড 470 01
গ্রামীণফোন বাংলাদেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর এবং MCC-MNC কোড 470 01 দিয়ে চিহ্নিত। গ্রামীণফোন সিম ব্যবহারকারীরা নিচের উপায়ে নিজেদের ফোনের IMEI স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারেন।
প্রথম পদ্ধতি — KYD এসএমএস। আপনার গ্রামীণফোন সিম থেকে একটি নতুন বার্তা খুলুন। লিখুন KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার IMEI এবং ১৬০০২ নম্বরে পাঠান। কয়েক মিনিটের মধ্যে BTRC সরাসরি একটি স্ট্যাটাস উত্তর পাঠাবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি — MyGP অ্যাপ। অ্যাপের "Help & Support" সেকশনে "Handset Status" নামে একটি অপশন আছে। সেখানে IMEI বসিয়ে যাচাই করা যায়।
তৃতীয় পদ্ধতি — গ্রামীণফোন হেল্পলাইন ১২১ নম্বর। অপারেটরকে IMEI দিলে তারা আপনার ফোনের NEIR স্ট্যাটাস জানিয়ে দেয়।
আপনার ফোন যদি গ্রামীণফোনের পোস্টপেইড প্যাকেজে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে কখনো কখনো অপারেটর-লক থাকতে পারে — অর্থাৎ অন্য কোম্পানির সিম তাতে কাজ করবে না। এই ক্ষেত্রে \*১২১\* চেপে IVR-এ "Device Lock Inquiry" বেছে নিন।
রবি-এয়ারটেল (Robi-Airtel)
২০১৬ সালের একীভূতকরণের পর রবি ও এয়ারটেল একই কোম্পানির অধীনে চললেও, দুটি ব্র্যান্ড আলাদা সিম হিসেবে বিক্রি হয়। দুটি ব্র্যান্ডেই IMEI যাচাই প্রক্রিয়া একই।
রবি সিমে KYD ১৬০০২ এসএমএস কাজ করে গ্রামীণফোনের মতোই — একই ফরম্যাটে। এর বাইরে রবি ব্যবহারকারীরা My Robi অ্যাপের "Device Verification" সেকশনে গিয়ে IMEI বসাতে পারেন। অ্যাপটি অফলাইনেও কাজ করার মতো হালকা, তাই ধীর ইন্টারনেট থাকলেও সমস্যা হয় না।
এয়ারটেল ব্যবহারকারীদের জন্য My Airtel অ্যাপ একই কাজ করে। কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২৩ — এখান থেকেও IMEI যাচাই করা যায়। বিশেষ একটি সুবিধা — রবি-এয়ারটেল ই-কেয়ার পোর্টালে লগইন করলে আপনার নামে নিবন্ধিত সব সিমের সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের ইতিহাসও দেখা যায়। অর্থাৎ আগে কোন কোন ফোনে এই সিম চালিয়েছেন তার তালিকা পাওয়া যায়।
বাংলালিংক (Banglalink) — কোড 470 03
বাংলালিংকের MCC-MNC কোড 470 03। বাংলালিংক ব্যবহারকারীদের জন্য IMEI যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো MyBL অ্যাপ। অ্যাপের হোমস্ক্রিনেই "Check IMEI" নামে একটি কুইক বাটন আছে।
USSD কোড \*১২১# চেপে IVR মেনুতে গেলে অপশন ৮-এ "Handset & IMEI Services" পাওয়া যায়। সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয় ভয়েস গাইডেন্স অনুসরণ করে IMEI টাইপ করুন।
এসএমএসের ক্ষেত্রে সেই একই KYD ১৬০০২ ফরম্যাট কাজ করে। বাংলালিংক ই-শপ থেকে কেনা ফোনে সাধারণত পূর্ব-নিবন্ধিত স্ট্যাটাস থাকে — অর্থাৎ অপারেটর নিজেই আপনার পক্ষে NEIR-এ এন্ট্রি দিয়ে দেয়।
বাংলালিংকের একটি বিশেষ ফিচার হলো "Device Insurance" — যেখানে IMEI ভিত্তিক বীমা কেনা যায়। চুরি বা হারানোর ক্ষেত্রে এটি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে।
টেলিটক (Teletalk)
রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের ক্ষেত্রেও KYD ১৬০০২ এসএমএস একই নিয়মে কাজ করে। টেলিটক গ্রাহক সেবা নম্বর ১২১, যেখান থেকে IMEI যাচাইয়ের সাহায্য পাওয়া যায়। টেলিটকের জন্য একটি আলাদা My Teletalk অ্যাপ আছে, তবে এটি অন্যান্য অপারেটরের অ্যাপের চেয়ে কম ব্যবহারকারী-বান্ধব। অনেক ব্যবহারকারী সরাসরি teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের সেলফ-সার্ভিস পোর্টাল বেশি ব্যবহার করেন।
সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিটকের বিশেষ প্যাকেজে কেনা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যায়, যা একটি বাড়তি সুবিধা।
অপারেটর-লক চেক ও আনলক প্রসেস
অনেকে বিদেশ থেকে এমন ফোন আনেন, যেটি কোনো নির্দিষ্ট অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ — যেমন আমেরিকার AT&T বা T-Mobile। এই ধরনের ফোনে বাংলাদেশি সিম ঢোকালে "Invalid SIM" বা "SIM Locked" দেখায়। এক্ষেত্রে IMEI ভিত্তিক রিমোট আনলক সার্ভিস প্রয়োজন হয়।
আনলক করার আগে নিশ্চিত হোন ফোনটি আসলে অপারেটর-লক কিনা, নাকি NEIR-অনিবন্ধিত হওয়ার কারণে কাজ করছে না। দুটি সমস্যার সমাধান ভিন্ন। স্ট্যাটাস যাচাই করতে <a href="/bn/">আমাদের IMEI চেকার</a>-এ আপনার নম্বর বসান — কয়েক সেকেন্ডে ক্যারিয়ার ও লক-অবস্থা দুটিই দেখা যাবে।
লক ফোন আনলক করতে চাইলে মূল ক্যারিয়ারের কাছে সরাসরি আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ। তৃতীয় পক্ষের সেবা ব্যবহার করলে কোনো বৈধ ও তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী বাছাই করুন।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: একই IMEI কি একাধিক অপারেটরে ব্যবহার করা যাবে? উত্তর: হ্যাঁ। NEIR-এ নিবন্ধিত একটি ফোনে আপনি গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক বা টেলিটক — যেকোনো অপারেটরের সিম ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ফোনে অপারেটর-লক থাকলে আলাদা কথা।
প্রশ্ন ২: ডুয়াল-সিম ফোনে দুটি অপারেটরের IMEI কি আলাদা যাচাই হবে? উত্তর: একটি হ্যান্ডসেটে দুটি IMEI থাকে। দুটির জন্যই আলাদা KYD এসএমএস পাঠানো ভালো, যেন উভয় স্লট সক্রিয় থাকে।
প্রশ্ন ৩: KYD এসএমএস পাঠাতে কি চার্জ লাগে? উত্তর: না, ১৬০০২ নম্বরে KYD এসএমএস পাঠানো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সব অপারেটরই এই সেবা ফ্রি রেখেছে।
প্রশ্ন ৪: ফোন বদলালে কি আবার নিবন্ধন করতে হবে? উত্তর: হ্যাঁ। প্রতিটি নতুন হ্যান্ডসেটের নিজস্ব IMEI আছে, তাই প্রতিটির জন্য আলাদা নিবন্ধন প্রয়োজন। দেশের ভেতর শোরুম থেকে কেনা ফোনে এটি সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়।
প্রশ্ন ৫: অপারেটর কি IMEI ব্লক করতে পারে? উত্তর: একক অপারেটর সরাসরি ব্লক করতে পারে না, তবে BTRC-র নির্দেশে যেকোনো অপারেটর NEIR ভিত্তিক ব্লক প্রয়োগ করে। চুরি যাওয়া ফোনের ক্ষেত্রে অপারেটর GD কপির ভিত্তিতে BTRC-কে ব্লকের অনুরোধ পাঠায়।
Ready to try it? Run a free IMEI check →