বিদেশ থেকে আনা একটি ফোন বাংলাদেশে কাজ করানোর জন্য এখন আর শুধু সিম ঢোকালেই হবে না। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ চালু হওয়া NEIR সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসী কিংবা ভ্রমণকারীর হাতে আসা প্রতিটি হ্যান্ডসেট প্রথমবার বাংলাদেশি নেটওয়ার্কে ধরা পড়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। এই সময়ের পরে অনিবন্ধিত ফোন ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে চালু হওয়া বাধ্যতামূলক ব্লকিং নিয়মের আওতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই নিবন্ধে দেখানো হলো — কীভাবে ৩০ দিনের নিয়ম কাজ করে, কী কী ডকুমেন্ট লাগে, BTRC ফর্মে কী পূরণ করতে হয়, শুল্ক কীভাবে হিসাব হয়, এবং বিমানবন্দরে কাস্টমসে কী মাথায় রাখবেন।
৩০ দিনের এসএমএস নিয়ম আসলে কী
আপনি যখন বিদেশ থেকে কেনা ফোনে প্রথমবার একটি বাংলাদেশি সিম চালু করেন, তখন গ্রামীণফোন (Grameenphone), রবি, বাংলালিংক বা টেলিটক — যেটিই হোক, অপারেটরের নেটওয়ার্ক IMEI নম্বরটি দেখতে পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে NEIR ডেটাবেসের সঙ্গে যাচাই করে। যদি ফোনটি ডেটাবেসে না থাকে, তাহলে আপনার সিমে BTRC-র পক্ষ থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় এসএমএস আসে। সেখানে বলা থাকে — পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে neir.btrc.gov.bd পোর্টালে নিবন্ধন না করলে ফোনটি ব্লক হয়ে যাবে।
এই ৩০ দিনের কাউন্টডাউন শুরু হয় সিম চালু করার দিন থেকে, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার দিন থেকে নয়। তাই অনেকেই ভুলবশত মনে করেন বিমানবন্দরে নামার পরই ঘড়ি চলতে শুরু করে — এটি সঠিক নয়। ফোন বাক্সে রেখে দিলে কাউন্টডাউনও শুরু হয় না।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
বিদেশ থেকে আনা ফোন নিবন্ধনে নিচের কাগজপত্র দরকার হয়। দেশে ফেরার আগে সম্ভব হলে সব ডিজিটাল কপি ফোনের গ্যালারিতে রেখে দিন — এতে পোর্টালে আপলোড করতে সুবিধা হয়।
- পাসপোর্টের প্রথম পাতা এবং সর্বশেষ বাংলাদেশে প্রবেশের সিল
- বোর্ডিং পাস বা ই-টিকেট, যা সর্বশেষ ফ্লাইটের তারিখ প্রমাণ করে
- ফোনের কেনার রসিদ — দেশের নাম, মুদ্রা ও মূল্য স্পষ্ট পাঠযোগ্য থাকতে হবে
- বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অথবা প্রবাসী হলে স্মার্ট কার্ড
- কাস্টমস ডিক্লারেশন ফর্মের ছবি, যদি বিমানবন্দরে আপনি ঘোষণা দিয়ে থাকেন
প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে BMET-এর সদস্য নম্বর থাকলে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। উপহার হিসেবে আনা ফোনের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের বিবরণ একটি সাধারণ ঘোষণায় লিখে আপলোড করতে হবে।
BTRC ফর্ম পূরণের নিয়ম
পোর্টালে লগইনের পর "Foreign Handset Registration" ক্যাটাগরি বেছে নিন। সাধারণ নিবন্ধনের চেয়ে এই ফর্মে কয়েকটি অতিরিক্ত ঘর থাকে। নিচের ঘরগুলো সাবধানে পূরণ করুন।
কেনার দেশ — যে দেশ থেকে ফোন কিনেছেন তার নাম। দুবাই বা সিঙ্গাপুর ট্রানজিট হলেও আসল ক্রয় দেশ লিখুন। ক্রয়ের তারিখ — রসিদে যেটি লেখা সেটিই। দেশে প্রবেশের তারিখ — পাসপোর্ট সিলের তারিখ। ক্রয় মূল্য — মূল মুদ্রায় (USD, AED, SAR ইত্যাদি)। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেদিনের হার অনুযায়ী টাকায় রূপান্তর করে দেখাবে।
দুটি IMEI আছে এমন ফোনের ক্ষেত্রে দুটি নম্বরই আলাদা ঘরে দিন। একটি দিলেও সিস্টেম মাঝে মাঝে গ্রহণ করে, কিন্তু পরে দ্বিতীয় সিম স্লট কাজ না করার সম্ভাবনা থাকে।
শুল্ক ও ট্যাক্স ক্যালকুলেটর
বিদেশ থেকে আনা প্রতিটি ফোন একই হারে শুল্কের আওতায় পড়ে না। বাংলাদেশের বর্তমান নিয়মে একজন যাত্রী বছরে দুটি হ্যান্ডসেট কর-মুক্তভাবে আনতে পারেন — একটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং দ্বিতীয়টি কর সাপেক্ষে। তিন বা ততোধিক ফোন আনলে প্রতিটির জন্য আলাদা শুল্ক প্রযোজ্য।
শুল্কের পরিমাণ ফোনের ঘোষিত মূল্যের ওপর নির্ভর করে। আনুমানিক হিসাব হলো — মূল্যের প্রায় ২৫ থেকে ৩১ শতাংশ মোট কর ও ভ্যাটসহ পরিশোধ করতে হয়। NEIR পোর্টালে ফর্ম জমা দেওয়ার পর শুল্ক প্রযোজ্য হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পরিমাণ দেখানো হয় এবং অনলাইন পেমেন্টের লিংক আসে। বিকাশ, রকেট, নগদ ও কার্ড — চারটি মাধ্যমেই পরিশোধ করা যায়। সঠিক অঙ্কটি আগেভাগেই জানতে চাইলে <a href="/bn/">আমাদের IMEI চেকার</a> দিয়ে প্রথমে আপনার ডিভাইসের মডেল শনাক্ত করে নিন।
বিমানবন্দরের কাস্টমসে যা মাথায় রাখবেন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত (চট্টগ্রাম) ও ওসমানী (সিলেট) — তিন বিমানবন্দরেই NEIR-সংযুক্ত কাস্টমস ডেস্ক রয়েছে। গ্রিন চ্যানেলে যাওয়ার আগে নিজেই হিসাব করে নিন আপনার ফোনের সংখ্যা ও মূল্য।
দুটি ফোন বা তার কম এবং প্রতিটির মূল্য আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার নিচে হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করা যায়। তবে নতুন ও দামি মডেল — যেমন iPhone-এর সর্বশেষ সংস্করণ — আনলে রেড চ্যানেলে গিয়ে ঘোষণা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কাস্টমসে দেওয়া ঘোষণার একটি কপি সংগ্রহ করুন, কারণ এটি পরে NEIR পোর্টালে আপলোডের সময় কাজে আসে।
বিমানবন্দরে অগ্রিম শুল্ক পরিশোধ করার সুযোগও আছে। সেক্ষেত্রে ৩০ দিনের নিয়ম কার্যকর হয় না, কারণ ফোন ইতিমধ্যেই বৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে কী হয়? উত্তর: ৩০ দিন পার হলে আপনার ফোনটি NEIR সিস্টেমে "unauthorized" হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সব বাংলাদেশি অপারেটরের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন আনব্লক করতে অতিরিক্ত যাচাই ও জরিমানা গুনতে হতে পারে।
প্রশ্ন ২: প্রবাসী আত্মীয় উপহার দিলে কি নিবন্ধন আলাদা? উত্তর: হ্যাঁ। উপহার হিসেবে আনা ফোনের ক্ষেত্রে গ্রহীতার নামে নিবন্ধন হবে এবং একটি সাধারণ ঘোষণা পত্রে দাতার সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখ করতে হয়। প্রয়োজনে নোটারি স্ট্যাম্প যুক্ত করা ভালো।
প্রশ্ন ৩: ক্রয়ের রসিদ হারিয়ে গেলে কী করব? উত্তর: রসিদ ছাড়া নিবন্ধন কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ফোনের বাক্সের ছবি, IMEI মিলিয়ে দেখানো এবং একটি লিখিত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। BTRC স্বপ্রণোদিত দাম নির্ধারণ করে শুল্ক হিসাব করে।
প্রশ্ন ৪: ভ্রমণকারী হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য এলেও কি নিবন্ধন করতে হবে? উত্তর: না। যদি আপনি বাংলাদেশি সিম একেবারেই না চালান এবং রোমিং সিম দিয়ে চালান, তাহলে নিবন্ধন প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশি সিম চালু করার মুহূর্ত থেকেই নিয়ম কার্যকর হয়।
প্রশ্ন ৫: শুল্ক পরিশোধের পর রসিদ কোথায় পাব? উত্তর: অনলাইন পেমেন্ট সফল হলে পোর্টালে ডাউনলোডযোগ্য ই-রসিদ আসে এবং একটি কপি আপনার ইমেইলে যায়। এটি ভবিষ্যতের যেকোনো অডিটের জন্য সংরক্ষণ করুন।
Ready to try it? Run a free IMEI check →